নিরাপদ পাসওয়ার্ড

সম্প্রতি জনপ্রিয় ই-মেইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ইয়াহুর প্রায় ৬ লাখ মেইল ঠিকানা হ্যাক হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ ওয়েব লঙ্কিডইনের ৬০ লাখ ব্যবহারকারীও হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূলত দুর্বল পাসওয়ার্ড ব্যবহারের কারণে অ্যাকাউন্ট ঝুঁকিপূর্ণ থাকে। এক্ষেত্রে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহারের বিকল্প নেই। সম্প্রতি অনলাইন নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ম্যাকাফি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহারের টিপস।
ই-মেইল, সামাজিক যোগাযোগ সাইট এমনকি অনলাইনে অর্থনৈতিক লেনদেনের জন্য প্রয়োজনে এক ব্যক্তির একাধিক অ্যাকাউন্ট থাকতে পারে। তবে এক্ষেত্রে সব অ্যাকাউন্টে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার বাঞ্ছনীয় নয়। ভিন্ন ভিন্ন ঠিকানার জন্য ভিন্ন ভিন্ন অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা ভালো। এতে একটি অ্যাকাউন্ট কোনোভাবে হ্যাক হলেও অন্য অ্যাকাউন্ট নিরাপদ থাকবে। পাসওয়ার্ড ব্যবহৃত যে কোনো সেবা ব্যবহার শেষে অবশ্যই সাইন আউট করা। কেননা নিজের অসাবধানতায় যে কেউ আপনার পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ক্ষতি সাধন করতে পারে। মূলত ম্যালওয়ার ঠেকাতে সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম হচ্ছে এন্টি ভাইরাস। আর পিসিতে ব্যবহৃত এন্টি ভাইরাস আপডেট রাখা জরুরি। অন্যের কম্পিউটার যেখানে আপনার নিয়ন্ত্রণ নেই [যেমন_ সাইবার ক্যাফে, লাইব্রেরি] সেখানে পাসওয়ার্ড ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে। বিশ্বাসযোগ্য না হলে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে সহজেই পাসওয়ার্ড চুরি যেতে পারে। এয়ারপোর্ট অথবা হোটেলের মতো জায়গাগুলোতে ওয়াই-ফাই সুবিধার আওতায় পাসওয়ার্ড ব্যবহারও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। আপনি সতর্ক থাকলেও হ্যাকাররা সহজেই এসব জায়গা থেকে পাসওয়ার্ড হাতিয়ে নিতে পারে।
গোপন পাসওয়ার্ড কখনোই কাউকে জানিয়ে দেওয়া উচিত নয়। কেননা সে হয়তো যে কোনো সময় অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে আপনার গোপনীয়তা নষ্ট করতে পারে। একটি নির্দিষ্ট সময় পর পর পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা ভালো। একটি পাসওয়ার্ড এক বছরের বেশি কোনোভাবেই ব্যবহার করা উচিত নয়। এতে পাসওয়ার্ডের গোপনীয়তা সুরক্ষিত থাকে।
মনে রাখা সহজ কিন্তু অন্য কারও পক্ষে অনুমান করা কঠিন এমন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করলে ইন্টারনেটে নিরাপদ থাকা সহজ হয়। মূলত প্রচলিত এবং প্রচলিত শব্দ যেমন কারও কিংবা কোনো স্থানের নাম, সেল ফোন নম্বর, ক্রমিক নম্বর ব্যবহার করা উচিত নয়। অক্ষর, অংক এবং সংকেত মিলিয়ে পাসওয়ার্ড তৈরি করা গেলে অপেক্ষাকৃত নিরাপত্তা ঝুঁকি কমে যায়। যেমন_ ওধস:)২ন২৯! দশটি ক্যারেক্টারের এই পাসওয়ার্ডটি কঠিন মনে হলেও এতে ‘ আই অ্যাম হ্যাপি টু বি টুয়েন্টি নাইন!’ বোঝানো হয়েছে। এভাবে নিজের মতো করে সাংকেতিক পাসওয়ার্ড বানিয়ে নেওয়া যায়। সর্বশেষ যে সেবাটিতে পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা হচ্ছে তারা পাসওয়ার্ডটিকে শক্তিশালী বলছে কিনা সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s